রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন
কমিটি না থাকায় অচলাবস্থা, নিয়মিত কমিটি গঠনের দাবি

জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালে ‘সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ০৬/০৯/২০২৬ ১২:৪৮:০৬
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
16

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালে পরিচালনা কমিটি না থাকায় প্রশাসনিক অচলাবস্থার পাশাপাশি একটি ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। কমিটি না থাকার সুযোগে হাসপাতালের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে আগের তুলনায় বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যাও কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে।


এ অবস্থায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্যদের একটি অংশ। এ বিষয়ে তারা সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হাসপাতালের আগে থেকে থাকা বিভিন্ন সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সাধারণ সভার মাধ্যমে নিয়মিত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত কমিটি না থাকায় একটি অন্তর্বর্তী কমিটির মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


হাসপাতালের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী চক্র বা ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগও উঠেছে। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালের অপথ্যালমিক প্যারামেডিক্স সজল দেব এবং কাউন্সিলর কাম প্রোগ্রাম অর্গানাইজার পিংকু আব্দুর রহমানের নাম অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন।


চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ

হাসপাতালের অপথ্যালমিক প্যারামেডিক্স পদে ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সজল দেব যোগ দেন। রোগীর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রাথমিক স্ক্রিনিং করা তার দায়িত্বের মধ্যে থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।


অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি এমবিবিএস চিকিৎসক নন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধিতও নন। এছাড়া সিলেট-তামাবিল সড়কের বিআইডিসি এলাকার গ্রিনহিল শাহপরান (রহ.) চক্ষু সেবা কেন্দ্রে তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সজল দেব। তিনি বলেন, “আমি সহকারী হিসেবে কাজ করছি। কখনো নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিইনি। রোগীদের চোখ পরীক্ষা করা আমার দায়িত্ব। কেউ এটিকে ডাক্তার দেখানো মনে করলে সেটি ভুল ধারণা।” তিনি কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও অস্বীকার করেন।


পিংকুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

হাসপাতালের কাউন্সিলর কাম প্রোগ্রাম অর্গানাইজার পিংকু আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং হাসপাতালের সর্বশেষ এজিএমের সময় মনোনয়ন ফরমের টাকা ও অন্যান্য প্রাপ্ত অর্থের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


হাসপাতালের ভেতরে স্থাপিত একটি ফার্মেসিতে তার অংশীদারত্ব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।


তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পিংকু আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি কখনো কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়। আমিও কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নই।”


জেলা প্রশাসকের কাছে ৪৫ আজীবন সদস্যের আবেদন

এদিকে জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির ৪৫ জন আজীবন সদস্য গত ১৯ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দ্রুত নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠনে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।


জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কল্যাণ ও চক্ষু রোগ দূর করার লক্ষ্য নিয়ে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এটি সিলেটবাসীর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নিয়মিত কমিটি না থাকায় নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা হাসপাতালটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।”


দ্রুত কমিটি গঠনের আশ্বাস

এ বিষয়ে জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সাধারণ সভার মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হবে।


হাসপাতালের অভ্যন্তরে কোনো চক্র বা সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ম


সিলেট প্রতিদিন / আরআর/এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স