বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
দু’জনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

সিলেটের পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হ'ত্যা মা'ম'লায় এসআই আকবরের মৃ'ত্যুদ'ন্ড

  • প্রকাশের সময় : ২৯/১০/২০২৬ ১৬:২০:৩৭
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
14

সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রাতভর নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলায় পলাতক থাকা পুলিশের বহিস্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঞার মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছেন আদালত। এছাড়া পুলিশের আরও দুই সদস্য কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। বাকী তিন আসামির মধ্যে বহিস্কৃত এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় প্রদান করেন।


এই মামলার ৬ আসামির মধ্যে কেবল আশেক এলাহী কারাগারে আছেন। দন্ডপ্রাপ্ত বাকী সবাই পলাতক রয়েছেন।


আদালতের সরকারি কৌঁসুলী (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আদালত ছয় আসামির মধ্যে আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। অন্য পাঁচ আসামির মধ্যে কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশের এসআই মো. হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী ও সাংবাদিক আব্দুল আল মামুনকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।


মামলার রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে আরও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।


রায় ঘোষণার আগে দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা মামলার একমাত্র আসামি পুলিশের বহিস্কৃত এএসআই আশেক এলাহীকে আদালতে আনা হয়। তার আগেই আদালতে হাজির হন রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম।


আসামিরা জামিন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রায় ঘোষণার আগে তিনি বলেন, ‘এই রায় শুনে আমি কী করবো। আমার রায়হানকে যারা নির্যাতন করে মারছে তারা তো পালিয়ে গেছে’। সালমা বেগম আরও বলেন, আজকে তো শুধু কাগজে কলমে রায় হবে। আসামিরা তো শাস্তি পাচ্ছে না। আসামিরা শাস্তি না পেলে তো আমার ৬ বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে গেলো।


২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। ১১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার পর সিলেট মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ওই বছরেই ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।এরপর পুলিশি হেফাজত থেকে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন। গত বছরের ১০ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পান। পরদিন ১১ আগস্ট তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।


২০২১ সালের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পিবিআই। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির ‘টু-আইসি’ পদে থাকা এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স