সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

শ্রমিক আন্দোলনে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে: সিলেটে রিজভী

  • প্রকাশের সময় : ০২/১১/২০২৬ ১৭:২৬:৫৯
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
9

শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, পরাজিত শক্তি শ্রমিকদের বিভ্রান্ত ও উসকানি দিয়ে রাজপথে নামানোর চেষ্টা করছে। এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।


সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট সফরকালে সহানগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে একটি পক্ষের হস্তক্ষেপ ও উসকানি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। গতকাল ঘটনাস্থলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে।


তাদের মধ্যে একজন নেতা আন্দোলনে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই প্রকাশ করেছেন। তাদের সাংগঠনিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও ফেসবুকে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে অবস্থান করে নানা ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের ইন্ধনে শ্রমিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হচ্ছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার এই অপচেষ্টা এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। তবে এর সঙ্গে আরও কেউ মদদ দিচ্ছে কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।


রাজনৈতিক বিরোধ ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, যেসব সমস্যার সমাধান সংসদে বা আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব, সেগুলোকে রাজপথে নিয়ে গিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন কী? লংমার্চের মতো কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।


তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচির কারণে শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ যুক্ত হচ্ছে। এসব বক্তব্য ও কর্মসূচি পরোক্ষভাবে আন্দোলনকে সমর্থন জোগাচ্ছে কি না, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ মন্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, কোন বিপ্লব টোকা দিচ্ছে? একটি সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। এই সময়ের মধ্যে সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আনয়নে কাজ করছে। দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগকে উপেক্ষা করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


রিজভী প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনারা বিপ্লব কবে করেছেন, কোন বিপ্লবে ছিলেন? সবাই আপনারা গুপ্ত ছিলেন। ছাত্রলীগ, যুবলীগের মধ্যে মিশে ছিলেন বলেই আপনাদের গুপ্ত বলা হয়। বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে, নেতাকর্মীরা রক্ত দিয়েছে এবং অনেকে জীবন উৎসর্গ করেছে। তাই যারা এ ধরনের কথা বলছেন, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। পরাজিত শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে নানা ধরনের খেলা খেলছে এবং উসকানি দিচ্ছে। তাদের পাল্লায় পড়ে তাদের কথায় বা সমর্থনে যাওয়া কারো মঙ্গল হবে না। তারা একসময় বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আন্দোলন করেছিল। ১৯৮৪, ১৯৯০, ১৯৯৬ সালে কী ঘটেছিল এবং পরে তাদের কী পরিণতি হয়েছে, তা সবাই দেখেছে। গত ১৭ বছরে কতজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তা সবাই জানে।


তিনি বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী। তারা কোনো চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার রাজনীতি সমর্থন করে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্ধারিত হওয়া উচিত।


স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, জেলা পর্যায়ের নেতাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে ও দলীয় প্রতীকে আয়োজনের বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে।


রিজভী বলেন, কোন এলাকায় কার জনপ্রিয়তা বেশি এবং কার জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তা স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনা করে প্রার্থী নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা ও ভোট গ্রহণের তারিখ অনুযায়ী সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।


সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।


এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেক, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, রেড ক্রিসেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম প্রমুখ।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স