বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ন
নবজাতকের মৃ.ত্যু

মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের মেন্টারনিটি ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ

  • প্রকাশের সময় : ০৪/১১/২০২৬ ১৭:৩২:৪৯
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
13

সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরার একটি মাতৃত্বকালীন (মেন্টারনিটি) সেবা ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে ইউনিটটিতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ জনবল ও জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, হাসপাতালের সম্প্রতি চালু হওয়া ‘অল উইমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটে প্রয়োজনীয় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্থায়ী অ্যানেসথেশিওলজিস্ট নেই। এ ছাড়া দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও তদন্তে পাওয়া গেছে।


ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, এসব অসংগতির কারণে ইউনিটটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও অন্যান্য ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় চালুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ওই ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউনিটটি বন্ধ রেখেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। নির্দেশনা অমান্য করা হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন নবজাতকের স্বজনেরা।


স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো অস্ত্রোপচার না করে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগমকে প্রসবের জন্য ঘটনার দুই দিন আগে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক রেজওয়ানা মির্জার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


নবজাতকের স্বজনরা জনান, আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার প্রতিবেদনে শিশুর ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি উল্লেখ ছিল। এ কারণে তাঁরা শুরু থেকেই চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর অনুরোধ জানান। তবে চিকিৎসকেরা মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। স্বজনদের অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


তারা জানান, প্রসবের একপর্যায়ে নবজাতকের মাথা বের হলেও কাঁধসহ শরীরের বাকি অংশ আটকে যায়। এ সময় টানাটানিতে শিশুটির গলা, পিঠ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকা হলেও ততক্ষণে নবজাতকটি মারা যায় বলে স্বজনদের দাবি।


এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নাজমা বেগমের স্বজনেরা। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কমিটির তদন্তে মাউন্ট এডোরার মাতৃত্বকালীন সেবা ইউনিটে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়ার পর রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স