সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, একদলীয় বাকশাল শাসনের অবসানের পর জিয়াউর রহমান সব রাজনৈতিক দলের জন্য রাজনীতির অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তার উদ্যোগে আওয়ামী লীগও পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তার স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সেক্টর ও ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে সম্মুখযুদ্ধেও নেতৃত্ব দেন। সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও এমসি কলেজ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তার যুদ্ধের ইতিহাস রয়েছে।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সময়ে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুশাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলীয়করণ, হত্যা, নির্যাতন ও অনিয়মে সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সশস্ত্র বাহিনীতে অস্থিরতা তৈরি হয়।
৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সে সময় জিয়াউর রহমান বন্দি ছিলেন এবং সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় ঐক্য, সুশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়াও গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এ দিবস কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়; বরং জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এ ইতিহাস ধারণ করতে হবে। আগামী দিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন সিসিক প্রশাসক। এ কারণে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে তরুণদের জানাশোনায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোরাদ সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমেদ।




প্রতিদিন ডেস্ক



