শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

আত্মগোপনে থেকে স্বপরিবারে দেশ* ছাড়লেন চেয়ারম্যান মুজিব

  • প্রকাশের সময় : ০৬/০৬/২০২৬ ১০:০৪:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহিত
Share
4

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলার প্রভাবশালী অনেক আসামী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ২৪ জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দলের কয়েকজন নেতা, সাবেক মন্ত্রী-এমপিও পালিয়ে দেশ ত্যাগ করেন। পালাতে গিয়ে ধরা পড়েন কয়েকজন। ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলীতে নিহত ও আহতের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানা এবং আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার বেশ কয়েকজন আসামী রয়েছেন যারা দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, শিল্পগ্রুপের মালিক ,আমলা ও জনপ্রতিনিধি। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত তারা আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুনসহ বহু অন্যানয় অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। কোনো রাখঢাক ছাড়াই প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা সরকারকে সমর্থন করেছেন।


৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সিলেটের অনেক আওয়ামী লীগ ও  অংঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই আত্মগোপন করে আছেন বলে জানা গেছে। মাঝে-মধ্যে এরা ঝটিকা মিছিল বের করছেন ও গোপন মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি, আবার কেউ অনলাইনে মিটিংয়ে যোগ দিচ্ছেন চলমান পরিস্থিতিতে স্বপরিবারে দেশ ছেড়েছেন একসময়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদের ঘনিষ্ঠজন ,৪নং লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মুজিবুর রহমান।



একাধিক মামলার আসামি চেয়ারম্যান মুজিব এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে।পুলিশ তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। এনিয়ে মামলার বাদী ও এলাকার জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে মুজিবের স্ত্রী সন্তানসহ ভারত হয়ে অন্য কোন দেশে অবস্থান করছেন। চেয়ারম্যান মুজিবের স্ত্রীও নারী সমাজ নিয়ে কাজ করার কারনে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত।মুজিবের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।। নুজিবসহ সিলেটের একাধিক মন্ত্রী এমপির বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যূত্থানে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালী থানায় দুইটিসহ একাধিক  মামলা রয়েছে। কতোয়াকী থানার একটি মামলার তিনি এজগারভুক্ত  ১৯নং ও অপর মামলায় ৪৬নং আসামী। 


মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ক্ষমতাকালীন সরকারী পেটুয়া বাহিনী ও শেখ হাসিনার মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগসহ সরকারী দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্করের সন্ত্রাসী লোকজন ছাত্র জনাতার পক্ষে বিভিন্ন মিছিল মিটিং করেন।  স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই মাসে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে দেশব্যাপী গণ আন্দোলন সৃষ্টি হলে বাদী উক্ত আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী ও সংগঠক হিসেবে অংশগ্রহণ করে। ঐ দিন দেশব্যপী সন্ত্রাসী আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ছাত্র জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন  শেখ হাসিনা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসে আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র জনতাকে দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ প্রদান করেন। এমনকি, প্রত্যক্ষভাবে সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দেখামাত্রই গুলি করার জন্য দেশের সকল বিজিবি ক্যাম্পসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদেরকে নির্দেশনা প্রদান করেন। উক্ত নির্দেশনার আলোকে ১-৪ নং আসামীর নির্দেশে ঘটনার তারিখ ও সময়ে সন্ত্রাসীরা বৈধ ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, স্থানীয়ভাবে তৈরী হাতবোমা (ককটেল), পেট্রোল বোমা, ইত্যাদি এবং মারাত্মক প্রাণ সংহারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র,দা, কিরিছ, লোহার রড, লাঠি-সোটা ইত্যাদিতে সজ্জিত হইয়া আন্দোলনরত লোকজনের উপর হামলার পরিকল্পনা করিয়া ঘটনাস্থল তথা অবস্থান গ্রহণ করে। ১৮ জুলাই বিকাল ৪টায় শতাধিক মোটরসাইকেলের এক মিছিল বাহির করে বাদীসহ কয়েক শত লোক অংশগ্রহণ করেন। ঘটনাস্থল তথা উৎপাতিয়া থাকা সমূহ আসামীগণসহ অজ্ঞাতনামা ২০০/৩০০ জন আসামী অতর্কিতভাবে জনতার মিছিলের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়।


অস্ত্র দ্বারা দরখাস্তকারী ভিকটিম মো: রাশেদ আহমদকে প্রাণে হত্যা উদ্দেশ্যে গুলি বর্ষণ করলে আসামীর নিক্ষিপ্ত গুলি ভিকটিম মোঃ রাশেদ আহমদ বাম পায়ের হাটুর উপর উরুতে লাগিয়া পা বিদীর্ণ হইয়া যায়। এ সময় মাটিতে লুটাইয়া পড়িলে ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ৫০, ১৪ নং আসামী এর হাতে থাকা বন্দুক, আগ্নেয়াস্ত্র, দা, কিরিচ ইত্যাদি দ্বারা উপর্যুপরী গুলিচবর্ষণ করিতে থাকিলে তাহার নিক্ষিপ্ত ছররা গুলিতে ভিকটিম মো: রাশেদ আহমদ এর বাম পায়ের হাটুর নিচে গুলি লাগিয়া বাম পা ঝাঁঝরা হইয়া যায় এবং মারাত্মক রক্তকরণ হয়। ঐ সময় ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৮, ৩৮, ৩৯, ৪০ নং আসামীগণ জন্যান্য স্বাক্ষীগণকে প্রাণে হত্যার উদ্ধেশ্যে তাহার হাতে থাকা ধারালো রামদা, কিরিচ, চাপাতি ইত্যাদি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা আঘাত করিলে বাদীর মারাত্মক যখম সহ হাঁড় ভাঙ্গিয়া যায় ঐ সময় , ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৫নং সহ সমূহ আসামীগণ হাত বোমা, পেট্রোল বোমা, ককটেল বোমা ফোটাইয়া আতঙ্ক তৈরী করিয়া জনমনে ভীতি সঞ্চার করিয়া ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ঐ সময় ছাত্র জনতা দিক বিদিক ছুটাছুটি করিয়া মারাত্মক আহত হয়। তখন দরখাস্তকারী বাদী আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা মারাত্মক আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়িয়া থাকিলে বাদীর আত্মীয় স্বজন ও ছাত্র জনতা সহ অন্যান্য স্বাক্ষীগণ বাদীকে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। 


গতবছর গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। তখন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দেন। এর পর সুযোগ বুঝে বেশিরভাগই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে কেউ ভারতে, কেউ বেলজিয়ামে, কেউ ফ্রান্সে, কেউ জার্মানিতে, কেউ কানাডায়, কেউ আমেরিকা, কেউ দুবাই, কেউ তুরস্কে, আবার কেউ মালয়শিয়াতে পালিয়ে যায়। তবে সবচেয়ে বেশি গেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। এদের বেশিরভাগই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অবস্থান করছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তবে এমন অনেক নেতাকর্মী আছেন যাদের নিয়ে ধারণা করা হচ্ছিল যে, তারা দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন। 


একইভাবে সারাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনেও নেতাকর্মীদের থাকার তথ্য মিলেছে। অনেকে অনলাইনে সরব রয়েছেন। আবার অনেক কলকাতায় আছেন বলে ধারণা করা হলেও প্রতিবেদনে দেশের বাহিরে থাকার তথ্য মিলেছে। পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখলেও তারা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।


গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যেম বেশি সরব থাকায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো নেতাকর্মী গ্রেফতার হচ্ছেনে। এরই মধ্যে অনেক এমপি-মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু গোয়াইনঘাট এলাকায় একসময়ে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। 


এ বিষয়ে পুলিশের সাথে কথা বলতে চাইলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির মুঠোফোনে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


সিলেট প্রতিদিন / আরজে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স