সিলেটের বালাগঞ্জে ২০০৭ সালে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় সুমেল খা নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সিলেটের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় দেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, দণ্ডিত সুমেল খা বালাগঞ্জ উপজেলার গোপকান গ্রামের তোইমুজ খার ছেলে। ২০০৭ সালে ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ২২ বছর।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বালাগঞ্জ সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১৩ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডে ১০ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ৬ নভেম্বর শিশুটির চাচা বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন।
রায়ে বলা হয়েছে, জরিমানার পুরো অর্থ ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। আসামি অর্থ পরিশোধ না করলে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য সিলেটের জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামির অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে।
আদালত দণ্ডিত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর জন্য সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী, হাজতে কাটানো সময়ের সুবিধা পাবেন তিনি।




বালাগঞ্জ প্রতিনিধি



