শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

বাল্যবিবাহ রুখে গোলাপগঞ্জে সাহসিকতার নজির স্থাপন করলেন স্বাস্থ্যকর্মী জেবুন নাহার

  • প্রকাশের সময় : ১৩/০৭/২০২৩ ২৩:৩০:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহীত
Share
8

আব্দুল মতিন, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করে সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মোছাঃ জেবুন নাহার বেগম (৩৩)। গত ১০ জুলাই উপজেলার একটি গ্রামে মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে উদ্যোগ নেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র এক রিকশাচালকের কন্যা মারজিনার সঙ্গে ৪৫ বছর বয়সী মৌলানা আবু জোহার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। খবর পেয়ে স্বাস্থ্যকর্মী জেবুন নাহার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কিশোরীর বয়স সম্পর্কে উপস্থিত লোকজনকে অবহিত করেন এবং বাল্যবিবাহ যে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করেন।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, জেবুন নাহার বিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তিনি কিশোরীর ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে বিয়ে বন্ধের অনুরোধ জানান। এ সময় কিছু ব্যক্তি তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


পরে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ উপস্থিত হয়ে বিয়ের কার্যক্রম বন্ধ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে বর মৌলানা আবু জোহাকে আটক করে। আহত অবস্থায় জেবুন নাহারকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন।


ঘটনার বিষয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জেবুন নাহার বলেন, “আমি একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নারী স্বাস্থ্য, কিশোরী স্বাস্থ্য ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করছি। যখন জানতে পারলাম একটি ১৪ বছরের মেয়ের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন নীরব থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি।”


তিনি আরও বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের সমাজের প্রত্যেকের উচিত এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। আমি বিশ্বাস করি, আইন ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।”


স্থানীয় সচেতন মহল জেবুন নাহারের এই সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সামাজিক চাপ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সত্ত্বেও একজন নারী স্বাস্থ্যকর্মীর এভাবে এগিয়ে এসে একটি কিশোরীর জীবন রক্ষার চেষ্টা করা প্রশংসার দাবিদার। তারা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


এলাকাবাসীর আশা, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সাহসী উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


সিলেট প্রতিদিন / জেআর


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স